পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবিরের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা তার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং এটিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা সঞ্জয় রাউত বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। তার দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছে। একই সুরে শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন জানিয়েছেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই ফলাফল প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন নয়। তার অভিযোগ, ভোট প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের কারচুপি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা পরাজিত হইনি, বরং জনগণের রায়কে বিকৃত করা হয়েছে।” এ কারণে পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই আসে না বলেও জানান তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। দলটির রাজ্যসভার উপনেতা সাগরিকা ঘোষ এই নির্বাচনী ফলাফলকে পরিকল্পিত বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এটি ছিল রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত একটি প্রক্রিয়া।
সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি বিচার বিভাগের নজরে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভোট গণনার সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লাইভ সম্প্রচার চালুর প্রস্তাবও দেন। পাশাপাশি শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গ সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান।
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। একইভাবে এনসিপি (শরদ পাওয়ার) ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণভাবে নাকচ করেছে। দলটির মতে, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিপরীতে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। তবে এই ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে আসছে