দেলোয়ার জাহান ঝন্টুকে নিয়ে আজকাল সমালোচনা কম হয় না। তার নাম শুনলেই এ প্রজন্মের দর্শক তাচ্ছিল্য করেন। পারলে দু-চার কথা শুনিয়ে দেন। তাদের মতে, প্রবীণ এই পরিচালক যে ধরনের সিনেমা বানান; তা বর্তমান সময়ে সঙ্গে খাপ খায় না। তা ছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে তার করা মন্তব্যগুলোও অপছন্দ তাদের।
তবে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ঝন্টুর অবদান অনেক। অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা বানিয়েছেন তিনি। প্রায় ৮০টি সিনেমা নির্মাণ করেছেন তিনি। একটা সময় শুক্রবার মানেই ছিল তার ছবি। এ ছাড়া লিখেছেন জনপ্রিয় অনেক ছবির চিত্রনাট্য।
দেশের চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান এই চলচ্চিত্র পরিচালক আর মাত্র দুটি ছবি নির্মাণ করে পরিচালনার ইতি টানবেন। তবে নিয়মিত চিত্রনাট্য লিখবেন।
ঝন্টু বলেন, ‘সামনে আর দুটি ছবি করে আমি অবসর নেব। নির্মাণে আর কাজ করব না। কারণ, অনেক তো হলো। শরীর এত পরিশ্রম সাপোর্ট দেয় না। তখন শুধু চিত্রনাট্য লিখব। তবে চলচ্চিত্রের সঙ্গে আমার আমৃত্যু সম্পর্ক থাকবে। আজীবন কাজ করে যাব। নির্মাণ যেহেতু অনেক শারীরিক পরিশ্রমের কাজ। তাই অবসর নেব।’
এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে হিন্দি ছবি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন ঝন্টু। এ কারণে সামাজিক মাধ্যমে ট্রলের মুখে পড়েন তিনি। যদিও নিজের বক্তব্য থেকে সরে আসেননি এ পরিচালক। জানান, আমৃত্যু দেশে হিন্দি ছবি আমদানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন।
ঝন্টু ‘লিডার’ চলচ্চিত্র পরিচালনার মাধ্যমে পরিচালনায় আত্মপ্রকাশ করেন। এটি প্রযোজনাও করেন তিনি। তার পরিচালিত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ‘বন্দুক’, যেটি মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে।
সবশেষ গেল ৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে ‘সুজন মাঝি’ সিনেমা। গ্রাম্য পটভূমিতে নির্মিত ছবিটি বলিউডের ‘জওয়ান’ ছবির সঙ্গে মুক্তি পায়। কিছু দর্শক সিনেমাটি দেখলেও দেখেনি সফলতার মুখ।