মারুফ শরীফ, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী। অনেক বছর পর গত ঈদে এসেছিলেন গ্রামের বাড়িতে। দীর্ঘ সময় ছুটি কাটানোর পর চলতি মাসেই ফিরেন কর্মস্থলে।
উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও এগিয়ে যাচ্ছে যা নিয়মিত গণমাধ্যমের কল্যানে জানতে পারেন তিনি। ভেবেছিলেন, উন্নয়নের শুরুটা হয়তো বিমানবন্দর থেকে দেখতে পারবেন। কারণ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ই-গেট কার্যক্রম উদ্বোধন হয়েছে অনেক আগেই।
দুবাই এয়ারপোর্ট দিয়ে ঝামেলাহীন কয়েক সেকেন্ডে ইমিগ্রেশন শেষ করেছিলেন, একইভাবে বাংলাদেশও ই-গেইট চালু হয়েছে শুনে তিনি খুশি হয়েছিলেন। তবে তার সেই আশায় গুড়েবালি। ইমেগ্রেশনের সামনে লম্বা লাইন। ঠিক তার সামনেই এতিমের মতো পরে আছে ই-গেইটের মেশিনগুলো। দেখে মনে হবে শোকেসে সাজানো কতগুলো ই-গেইট।
কাজে আসছে না ৪ হাজার কোটি টাকার ই-গেট প্রকল্প
পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করে ২০২২ সালে জুলাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ই-গেট কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি নাগরিককে ই-পাসপোর্ট দিয়েছে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
জানা গেছে, বিমানবন্দরে স্থাপিত ২৭টি ই-গেট আমদানি করা হয়েছে জার্মানি থেকে। দাবি করা হয়, এসব গেট অত্যাধুনিক। কয়েকদিন ব্যবহারের পর শুরু হয় ই-পাসপোর্টের সঙ্গে ই-গেটের সার্ভারের সংযুক্তি জটিলতা। উদ্বোধনের পর থেকে মাঝে-মধ্যে গেটগুলো বন্ধ হতে শুরু করে। ই-পাসপোর্টধারী বহু যাত্রী বিমানবন্দরে বহির্গমনের সময় ই-গেট বন্ধ দেখতে পান। ফলে গতানুগতিক পদ্ধতিতে ইমিগ্রেশন শেষ করে তাদের বিমানে উঠতে হচ্ছে।
তবে একটি সুত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দরে ই-গেটে দায়িত্বরত সদস্যরা যাত্রীদের এটা ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করছেন।
ইমিগ্রেশন পার করতে টাকা গ্রহনের অভিযোগ
বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনেকে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে গিয়ে কাজ করেন। প্রবাসীদের এমন কার্যক্রমের ভিত্তিতে নিয়মিত মুভমেন্ট নেই এমন যাত্রীদের ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপর রয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। তবে কিছু পুলিশ সদস্য এই নির্দেশনাকে অসৎভাবে কাজে লাগিয়ে টাকার বিনিময়ে ইমিগ্রেশন পার করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অনেক গুরুত্বপুর্ন ব্যাক্তি বা ব্যবসায়ীদেরও আরব আমিরাতে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে ইমেগ্রেশন পার হওয়ার সময় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। ই-গেইট ব্যবহারের ফলে ইমিগ্রেশন পুলিশের এমন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্থ হবে তাই ই-গেইট ব্যবহারের সুবিধা দেয়া হচ্ছেনা বলে অনেকে মনে করেন।
ই-গেট কি এবং কিভাবে ব্যবহার হয়
ই-পাসপোর্টধারী যাত্রী ১৮ সেকেন্ডের মধ্যে ভেরিফিকেশন শেষে ই-গেট অতিক্রম করতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রথমে পাসপোর্টের ডিজিটাল ছবিযুক্ত পৃষ্ঠা ই-গেটের মনিটরের সামনে ধরলে ১০-১৫ সেকেন্ডের মধ্যে কাঁচের দরজা খুলে যাবে। নির্দিষ্ট নিয়মে গেটের নিচে দাঁড়ানোর পর ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। এরপর সব ঠিকঠাক থাকলে ই-গেট দিয়ে ঢুকে স্ক্যানিং গেটের সামনে দাঁড়ালে ৫-৬ সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-পাসপোর্টের যাবতীয় তথ্য যাচাই শেষে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সঠিকভাবে ই-পাসপোর্ট ব্যবহারে সহযোগিতা করবেন।