রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত এমপিওভুক্ত লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৬ শতক জমি ক্রয়ে গড়িমিলের অভিযোগ উঠেছে। নামকরা এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থৗর সংখ্যা কয়েক হাজার। এমপিওভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ শিক্ষক সরকারের দেওয়া শতভাগ বেতন পান। শুধু শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন থেকেই কোটি কোটি টাকা আয় হয়। অথচ এ আয়ের অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে সরকারি কোনও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের জায়গা সংকট দেখা দিলে পুলিশের সাবেক ডিআইজি মিলি বিশ্বাসের নিজস্ব জায়গা ২৬ শতক জমি কেনার জন্য প্রতি শতক ১৩ লাখ টাকা দাম নির্ধারণ করে মোট ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করে।
বায়না দলিলে স্কুল কর্তৃপক্ষ হিসেবে দ্বিতীয় পক্ষ আকবর হোসেন দলিল রেজিস্টারি করন ফি, গেইন ট্যাক্স, আয়করসহ যাবতীয় ব্যায়ভার বহন করবেন। বায়না দলিল করার সময় জমির মালিককে বায়না হিসেবে ১৫ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করার কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু গত ২৩ জানুয়ারি দলিল রেজিস্টারি করার সময় জমির মূল্য ১৩ লাখ স্থলে প্রতি শতকের মূল্য ৬ লাখ দেখিয়ে জমির সর্বমোট মূল্য ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা রেজিস্টারি করা হয়। দলিল নম্বর ১১২৭৪/২০২৩। কিন্তু জমির দলিলে প্রতি শতক ৬ লাখ দেখানো হলেও জমির মালিককে ২৩/৫/২৩ তারিখে এসবিএসি ব্যাংকের দুটি চেকের মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা দাম ধরেই ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।প্রথম চেক নম্বর ৪৫৩৪৬৩০ তারিখ ২৩.৫.২৩ ইং টাকার পরিমাণ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অন্য চেকের
৪৫৩৪৫৩১ তারিখ ২৩.৫.২৩ইং টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। দুই চেকের মাধ্যমে ২ কোটি ৯০ লাখ প্রদান করা হয়।চেকে স্বাক্ষর করেন স্কুল গভর্নিং বডির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন এবং লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের তৎকালীন অধ্যাক্ষ রায়হান শরীফ।
এব্যাপারে লায়ন্স ক্লাবের কয়েক জন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেজিস্ট্রিকৃত ওই ২৬ শতক জমি ক্রয়ে সত্যিকার অর্থে কত টাকা জমির মালিক নিয়েছে তা নিয়েও এখন অনেকটাই ধোয়াসা।
লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজের অভিযুক্ত সাবেক গভর্নর কমিটির চেয়ারম্যান আকবর হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই ওই মৌজার নির্ধারিত মূল্যে রেজিস্ট্রি দলিল করা হয়েছে । এতে করে কোনো ঝামেলা ভবিষ্যতে হবে বলে আমার মনে হয় না।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে লায়ন্স ক্লাবের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লায়ন মোঃ আজহারুল ইসলাম দুলাল বলেন, আমরা এঘটনায় একটি ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছি তারা অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।