স্পোর্টস ডেস্ক: পাশের দেশ ভারতে বিশ্বকাপ বলেই উচ্চাশা ছিল বাংলাদেশ দল আর দলের সমর্থকদের। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে অনেকটা মিল থাকার কারণেও এমনটা প্রত্যাশা ছিল অনেকের। তাছাড়া সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে এক-ঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে সেরা দলটাই গড়েছিল বাংলাদেশ দলের নির্বাচকেরা।
যে দলে রাখা হয়নি তামিম ইকবালকে। যিনি বিশ্বকাপের আগে লম্বা সময় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, ওয়ানডে বিশ্বকাপের সুপার লিগে তিন নম্বর দলও হয়েছিল তার নেতৃত্বেই। এ নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি।
তবে আফগানিস্তানকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উড়িয়ে দিয়ে সেসব আলোচনা-সমালোচনা চাপা দিয়ে দেওয়া হয় অনেকটাই। তবে পরের ম্যাচেই মিলিয়ে যায় সবকিছু। এরপর তো টানা হেরেছে দল। এমন কী সবশেষ নেদারল্যান্ডসের কাছেও হারতে হলো টাইগারদের।
ডাচদের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ইডেন গার্ডেন্সের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত হন সাকিব। একের এক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হলেও অধিনায়ক সামলে নেন ঠাণ্ডা মাথায়।
সাকিবকে প্রশ্ন করা হয় এ যাবত কালে এটিই কী বাংলাদেশের সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ কী না। সাকিবও নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন, এটিই বাংলাদেশে বাজে বিশ্বকাপ। অথচ সাকিব আল হাসান কয়েক মাস আগে বলেন, ২০২৩ সালটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
“সেটা আপনারা হয়তে নির্দ্বিধায় বলতে পারেন (যে এটাই সবচেয়ে খারাপ বিশ্বকাপ)। আমি সে ক্ষেত্রে আদৌ দ্বিমত করব না”
২০০৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপেই তিনটি করে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২০০৭ বিশ্বকাপে নয়টি ম্যাচ খেলে তিন জয়ে সুপার এইটেও উঠেছিল।
২০১৯ বিশ্বকাপেও নয়টি ম্যাচ খেলে জিতেছিল তিনটি। এ ছাড়া আর কোনো বিশ্বকাপেই নয়টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি কিংবা সুযোগ করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল।
১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের মতো দলকে হারিয়েছিল। ২০০৭ সালে ভারতকে ছিটকে দিয়েছিল টুর্নামেন্ট থেকে। ২০১১ তে ইংল্যান্ড, ২০১৫ তে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। ২০১৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চমক দেখানো দলটা ২০২৩ সালে এসে নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে যাওয়াটা স্বাভাবিক কোনও ব্যপার নয়।
এখন পর্যন্ত হিসেব করলে ২০০৩ বিশ্বকাপের সঙ্গে ২০২৩ বিশ্বকাপের কোনও পার্থক্য নেই। এবারের মতো ব্যালেন্সড টিম এর আগে কখনো হয়েছে কী না এ নিয়েও সন্দেহ থেকে যায়।
দারুণ গুছানো একটা দল নিয়ে এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পেছনে কারণ হিসেবে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর জয়েন্ট নিউজ এডিটর আজাদ মজুমদার যেমনটা বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে টি-স্পোর্টসের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের সাক্ষাৎকারটি ছিল বাংলাদেশ দলের বড় ক্ষতিকর দিক। দল ঘোষণার পর যখন প্রতিপক্ষ দলগুলো নিয়ে চিন্তা করার কথা ছিল, সাকিব তখন সমালোচনার তীর ছুড়েছেন বিপক্ষে থাকা খেলোয়াড়দের উদ্দেশে।
এতে করে তিনি নিজের ওপর কিছু অপ্রয়োজনীয় চাপ টেনে নিয়েছিলেন। পুরো দল এখন তার অসৎ উদ্দেশ্যমূলক সাক্ষাতকারের ভুক্তভোগী এবং আগামী বছরগুলিতে এটা চলতে থাকবে। নেদারল্যান্ডসের কাছে পরাজয় এটা তো কেবল শুরু। বিসিবিও এর দায় এড়াতে পারে না কারণ এটি স্পষ্টতই সাকিবকে তামিমের বিরুদ্ধে যেতে উত্সাহিত করেছিল যাতে কিছু লোককে ব্যাপক সমালোচনা থেকে বাঁচানো যায় বিশ্বকাপের সময়টাতে।’