বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ক্রীড়াসামগ্রী ব্র্যান্ড নাইকি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কঠিন সময় পার করছে। বিক্রি ও গ্রাহক কমার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডগুলোর কাছেও কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বাজারে অবস্থান ধরে রাখতে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে নাইকি।
প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে থাকা এলিয়ট হিল দুই বছর আগে অবসর থেকে ফিরে এসে নাইকির পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা শুরু করেন। তবে এই পরিবর্তন দ্রুত ফল দিচ্ছে না। এর মধ্যেই বড় ধাক্কা হিসেবে নাইকির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি সুইজারল্যান্ডের ক্রীড়াসামগ্রী প্রতিষ্ঠান অন-এ যোগ দিয়েছেন।
নাইকির সাম্প্রতিক দুর্বলতার পেছনে কয়েকটি কৌশলগত সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা। খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক কমিয়ে সরাসরি অনলাইনে গ্রাহকদের কাছে পণ্য বিক্রির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং সীমিত সংস্করণের জুতার সহজলভ্যতা বাড়ানোর বিষয়গুলো এর মধ্যে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পণ্য বেশি সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে গ্রাহকদের আগ্রহ কমেছে।
অন্যদিকে ডিজিটাল ব্যবসায় বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগে অন ও হোকার মতো নতুন প্রজন্মের ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত বাজারে জায়গা করে নেয়। নাইকির ঐতিহ্যবাহী বাজারেও এসব প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
নাইকির উত্থানে একসময় বড় ভূমিকা রেখেছিলেন মাইকেল জর্ডান। পরে টাইগার উডস, সেরেনা উইলিয়ামস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রীড়া বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই তারকা-নির্ভর শক্তিতে ভাটা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪ সালে টাইগার উডস নাইকির সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করেন। বিশ্বকাপজয়ী লামিনে ইয়ামালও নাইকি ছেড়ে অ্যাডিডাসে যোগ দেন।
শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। গত পাঁচ বছরে নাইকির শেয়ারের দাম প্রায় ৭৫ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ১০০ সূচক থেকেও প্রতিষ্ঠানটিকে বাদ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ প্রান্তিকে নাইকির আয় হয়েছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম। চীনের বাজারে আয় কমেছে ২৬ শতাংশ। একই সময়ে জর্ডান ব্র্যান্ডের বৈশ্বিক বিক্রিও কমেছে। অতিরিক্ত রেট্রো জুতা সরবরাহের কারণে এখন এ ধরনের পণ্যের পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
নাইকি জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরে তাদের আয় এক অঙ্কের ঘরে কমতে পারে। পাশাপাশি ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কর্মীসংখ্যা কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যার মধ্যেও নাইকির শক্তিশালী ব্র্যান্ড পরিচিতি ও বিশ্বজুড়ে গ্রাহক আনুগত্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আবার বিক্রি ও মুনাফার প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে পারে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করবে নতুন পণ্য, বিপণন কৌশল এবং ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের ওপর।
নাইকির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ক্রীড়াসামগ্রী, জর্ডান ব্র্যান্ড ও চীনের বাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এখনো অনেক কাজ বাকি।
সূত্র: বিবিসি