বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসেই দেশে ফিরে আসছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বসহ তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরবেন এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।
৭৮ বছর বয়সী নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীরা ভয়ানক দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন। মৃত্যু যদি আসে, তাহলে আমার মাটিতে আসুক—যেখানে আমার বাবা-মা কবরস্থ এবং যেখানে তাদের রক্ত ঝরেছে।”
এই ঘোষণায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, মামলা ও দমন-পীড়ন সহ্য করে যাওয়া লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মী এখন আশায় উজ্জীবিত। জননেত্রীর এই সাহসী সিদ্ধান্ত তাদের মনে নতুন উদ্যম ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে।
তিনি বলেছেন, “এবার আমি দেশে ফিরছি, তোমরাও একদিন আসবে। সবাই মিলে আদালতে আত্মসমর্পণ করব।”
শেখ হাসিনা আরও জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
তিনি বলেন, “যদি আমরা খারাপ কাজ করে থাকি, তাহলে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার কোনো গোপন আলোচনার বিষয় নয়।”
দলের পুনর্গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ১২৫টি সংসদীয় আসনে অনলাইন বৈঠক করেছেন। নেত্রীর এই দৃঢ় অবস্থান এবং দেশপ্রেমের ডাক আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মীকে আরও সংগঠিত ও উৎসাহিত করবে।
শেখ হাসিনার এই ঘোষণা বাংলাদেশের কোটি আওয়ামী লীগ সমর্থকের হৃদয়ে নতুন আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে দল আবার ঘুরে দাঁড়াবে, এই বিশ্বাস এখন সবার মনে দৃঢ় হয়েছে।