রংপুরের মিঠাপুকুরে দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন রাব্বিকে মব তৈরি করে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতের এক নেতার বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বৈরাতিহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, জামায়াত নেতা কাওসারের নেতৃত্বে কয়েকজন সহযোগী পাঁচটি মোটরসাইকেলে করে বাজারে আসেন। সাংবাদিক রাব্বি ওই সময় বাড়ির কাছে একটি চায়ের দোকানে ছিলেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক রাব্বি জানান, বুধবার দিনের বেলায় তার প্রতিবেশী ভাতিজি আঁখি নামের এক মেয়েকে পরকীয়া প্রেমিক তাওহীদ (জামায়াত কর্মী) লতিফপুরের আনন্দ নগর বিনোদন কেন্দ্রে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে আঁখির চাচা আমিনুর মিয়া সাংবাদিক রাব্বির কাছে মোটরসাইকেল চান। পরে রাব্বি নিজেই তাকে নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রে গিয়ে আঁখি ও তাওহীদকে ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ দেখতে পান। তারা আঁখিকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসেন।
এ ঘটনা জানাজানি হলে তাওহীদ প্রকাশ্য ক্ষমা চেয়ে চলে যান। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত নেতা কাওসার সাংবাদিক রাব্বিকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তার মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছে। কেন তাওহীদের প্রেমিকাকে নিয়ে আসা হয়েছে। একপর্যায়ে কাওসার রাব্বিকে মারধর করেন। মব তৈরি করে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যেতে উদ্যত হন। এসময় কাওসার চিৎকার করে বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের কথা মতো চলে।’ তিনি রাব্বিকে ‘শায়েস্তা করার’ হুমকি দেন।
স্থানীয় লোকজন ৯৯৯- এ ফোন করলে মিঠাপুকুর থানা থেকে এএসআই অজয় কুমারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিক রাব্বিকে উদ্ধার করে। পুলিশ আসার পরও কাওসার ও তার দলবল প্রকাশ্যে হুমকি দেয়, ‘মিঠাপুকুর উপজেলা সদরে পেলেই তুলে নিয়ে গিয়ে সাইজ করা হবে।’
সাংবাদিক রাব্বি বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য উপজেলা সদরে যেতে পারছি না। কাওসার ও তার সহযোগীদের প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিষয়টি মিঠাপুকুর থানার ওসি নুরে আলম সিদ্দিককে জানিয়েছি। বর্তমানে বাসায় অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি।’তিনি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন।
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাওসারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। রংপুর জেলা জামায়াতের সভাপতি ও মিঠাপুকুরের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রাব্বানীকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি জানতাম না। বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেব।’
মিঠাপুকুর থানার বৈরাতি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ফজলুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি অবহিত হয়েছি। সাংবাদিক রাব্বি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’