দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী কঠিন সময় পার করছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর দলটির অনেক নেতাকর্মী কারাবন্দী, আবার কেউ কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসে থেকেও কিছু নেতা কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম নাম যুক্তরাজ্য প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান শাহীন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মতিউর রহমান শাহীন যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড শাখা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করলেও তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং বিভিন্নভাবে সহায়তা করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়লেও তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক কারাবন্দী নেতা সংবাদ পোস্টকে বলেন, কোনো মামলা ছাড়াই তিনি গত আট মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে বন্দী থাকার কারণে তার পরিবারও নানা সংকটে পড়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, কারাগারে আসার পর মনে হয়েছিল আমাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। কিন্তু একজন মানুষ নিয়মিতভাবে আমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি হলেন মতিউর রহমান শাহীন ভাই। তিনি আমার পরিবারকে সহযোগিতা করেছেন এবং আমাদের খোঁজখবর নিয়েছেন। এমন সময়ে তার এই সহযোগিতা আমাদের জন্য অনেক বড় শক্তি।
ওই ছাত্রলীগ নেতা আরও বলেন, আমরা শেখ হাসিনার সৈনিক। নানা কষ্টের মধ্যেও আমরা বিশ্বাস করি, একদিন পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে। তখন দলের কঠিন সময়ে যারা নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, তাদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে।
এ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মতিউর রহমান শাহীন সংবাদ পোস্টকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপার আদর্শ ও নির্দেশনায় আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী নির্যাতিত ও অসহায় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা এলাকার অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে নানা সমস্যার মধ্যে আছেন। তাদের পরিবারও কষ্টে আছে। আমি প্রবাসে থেকেও যতটুকু পারি তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জায়গা থেকেও যারা সমস্যার কথা জানান, তাদের দিকেও নজর দেওয়ার চেষ্টা করি।
মতিউর রহমান শাহীন বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দুঃসময়ে সহকর্মীদের পাশে থাকা তার নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন, নেতাকর্মীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যই একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলে।
দলটির কয়েকজন কর্মীর মতে, প্রবাসে থেকেও দেশের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের খোঁজখবর নেওয়ার কারণে মতিউর রহমান শাহীন ইতিমধ্যে অনেকের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে কঠিন সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে বলে তারা মনে করেন।