সরকার গঠনের দুই মাসের মধ্যেই ‘আওয়ামী স্টাইলে’ দলীয়করণ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বৈষম্য ও একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছেন উল্লেখ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে, জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সচিবালয়ে যেসব কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী আমলে ওএসডি ছিলেন, এখন আবার তাঁদের ওএসডি করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগে এটি সবচেয়ে বেশি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাব ছিল বিএনপির। এখন গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। তাঁর মতে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।
সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাঁদের কথা শুনলে মনে হয় দেশে আর কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা কেবল বিরোধী দল। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে তাদের কোনো কথা নেই।
১৯৯৭ সাল থেকে একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই নির্বাচনের পরেই আমরা জামায়াত এত খারাপ হয়ে গেলাম।’
২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বরের লংমার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সে বছরই স্বৈরাচারী সরকারের পতন হওয়ার কথা ছিল। সেদিন সারা বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় এসেছিলেন। বিএনপি ও জামায়াত নেতারা গুলশানে একটি বাসায় বৈঠক করে ব্যাপক পরিকল্পনাও নিয়েছিলেন। কিন্তু কর্মসূচির দিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া দলের অন্য নেতাদের সবার ফোন বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত। শেখ হাসিনার কোনো কাজকে তিনি অপছন্দও করেননি, নিষেধও করেননি, বরং নির্বিঘ্নে সহযোগিতা করেছেন। তাই এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে কেন রাষ্ট্রপতি পদে রাখা হয়েছে তা বিএনপিই ভালো বলতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াতের পক্ষে এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানানো সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেন রফিকুল ইসলাম।