‘সেবা ও সদাচার, ডিএমপির অঙ্গীকার’- এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে উদযাপিত হচ্ছে ডিএমপির ৪৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস।
বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে ডিএমপি।
বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ ইউনিট ডিএমপি ১৯৭৬ সাল থেকে জনবহুল রাজধানী ঢাকা মহানগরীর জননিরাপত্তা বিধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে আসছে।
প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পেশাগত জ্ঞান অর্জনকে প্রাধান্য দিয়ে, সৃজনশীলতা এবং জন অংশীদারিত্বকে অন্যতম কর্মকৌশল হিসেবে গ্রহণ করে নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট ডিএমপি।
ডিএমপির প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
এই উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খান এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ডকুমেন্টারি প্রদর্শনসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।
স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানের সভাপতি ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) বলেন, ১২টি থানা ও ৬ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরবাসীর আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে আজ ৫০টি থানা ও ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ডিএমপি।
তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত অপরাধের ধরণ পরিবর্তন হচ্ছে। ডিএমপি অতি দক্ষতার সঙ্গে এসব অপরাধকে মোকাবিলা করেছে। অপরাধ দমনে ক্রাইম বিভাগের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া জঙ্গি দমনেও দক্ষতার পরিচয় দেখিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগ জঙ্গিবাদকে সফলতার সঙ্গে দমন করেছে। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। এছাড়া গুজব ও সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধ ডিএমপি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে যাচ্ছে। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ডিএমপি ওয়ান স্টপ সাইবার সেন্টার চালু করতে যাচ্ছে।
আইন শৃঙ্খলার পাশাপাশি সামাজিক কাজও ডিএমপি করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে ডিএমপি মুমূর্ষু রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। করোনাকালে মা-বাবা বা আত্মীয়স্বজন মরদেহ রেখে পালিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ পরম মমতায় সব মরদেহ সৎকার করেছে। কখনো কখনো তারা প্লাজমা দিয়ে রোগীদের সেবা করেছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, যানজট ঢাকা শহরের অন্যতম একটি সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এমন একটি ঢাকা করতে চাই যেখানে উত্তরা থেকে ১৫ মিনিটে গুলিস্তান আসা যায়। সকলের সহযোগীতায় আমরা স্মার্ট ডিএমপি করতে চাই। আমরা এমন একটি ডিএমপি করতে চাই যেখানে একজন নারী রাত তিনটায় রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে তার যেন মনে হয় তার পিছনে একজন পুলিশ সদস্য আছেন।
তিনি আরো বলেন, অতীতে যারা জঙ্গি নাশকতা সৃষ্টি করেছে, ডিএমপি কঠোর হস্তে তাদের দমন করেছে। বর্তমানে ডিএমপির সক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠি জঙ্গি ও নাশকতা চালালে ডিএমপি কঠোর হস্তে তাদেরকে দমন করবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বির্নিমাণে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নে স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে ডিএমপি। আগামীতে স্মার্ট ডিএমপি’ গঠনে আমরা বদ্ধপরিকর।