কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম নওশাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনতার হাতে আটক হেলালের জবানবন্দিতে মোকাররম হোসেন খোকার নাম এসেছে। এছাড়া পুলিশের হাতে আটক তিন আসামি খোকার স্বজনদের বাড়িতে তিন দিন অবস্থান করেছিলেন বলেও এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নওশাদ বলেন, এসব অভিযোগ ওঠার পরও খোকা সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করেননি। বরং তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। এ কারণে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।
এর আগে, রোববার (১৯ জুলাই) জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম সাগর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মোকাররম হোসেন খোকাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম নওশাদ এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কারও বিষয়ে সংগঠন কোনো ধরনের ছাড় দেবে না।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন সদর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলালকে (২৪) আটক করে। স্থানীয়দের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল মোকাররম হোসেন খোকার নাম উল্লেখ করেন। এরপর থেকেই খোকা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিলকে (২৭) গ্রেপ্তার করে।
পরে নিহত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।