সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা ও প্রবাসী আওয়ামী লীগের একটি অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান গ্রুপিং রাজনীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের অনুসারীদের সঙ্গে প্রবাসভিত্তিক নেতাকর্মীদের মতপার্থক্য ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেও দুঃসময়ে দলের তৃণমূল কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছেন প্রবাসীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কারাবন্দী, নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্ত নেতাকর্মীদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতারা। শুধু খোঁজখবরেই সীমাবদ্ধ নয়, অনেকেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা, পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করছেন। ঈদসহ বিভিন্ন সময়ে বিশেষ সহায়তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবারে।
এদিকে, গ্রুপিং রাজনীতির কারণে এসব মানবিক কর্মকাণ্ডের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, ব্যক্তি ও বলয়ভিত্তিক রাজনীতির কারণে প্রকৃত অবদানকারীরা আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন।
বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ মজনু এ বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে বলেন, দুঃসময়ে বালাগঞ্জের প্রবাসী ভাইয়েরা যদি দলের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে না দাঁড়াতেন, তাহলে ৫ আগস্ট পরবর্তী বিভীষিকাময় সময়ে তৃণমূলের কারান্তরীণ ও বিপদগ্রস্ত কর্মীদের দুর্ভোগ বালাগঞ্জ আওয়ামী লীগের জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ে পরিণত হতো।
তিনি বলেন, ক্রেডিট যদি দিতেই হয়, তাহলে সর্বাগ্রে তাদেরকেই দিতে হবে যারা কোনো স্বার্থ বা বিনিময় ছাড়া দলের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারাবন্দী নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, এসবই প্রকৃত ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে একটি শ্রেণি শুধুমাত্র পছন্দের ব্যক্তিদের খুশি করতে গিয়ে প্রকৃত অবদানকারীদের অবমূল্যায়ন করছে, যা দলীয় ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর। আমরা কেন এত অকৃতজ্ঞ হয়ে যাচ্ছি? কেন এখনো সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে পারছি না? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি নেতাকর্মীদের আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান।
প্রবাসী একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা নিয়মিতভাবে কারাবন্দী কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন। অনেক ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা ব্যয় এবং জরুরি প্রয়োজনেও তারা এগিয়ে আসছেন।
জুনায়েদ আহমেদ মজনু বলেন, লিখতেই যদি হয়, ক্রেডিট দিতে কার্পণ্য কেন? আসুন, উদার হই। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই। তাহলেই দল শক্তিশালী হবে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ হবে।
সচেতন মহল মনে করছে, প্রবাসী নেতাকর্মীদের এই মানবিক উদ্যোগ দলীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তবে গ্রুপিং রাজনীতি পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ না করলে এ ধরনের উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।
তাদের মতে, প্রবাস ও দেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, ত্যাগী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং অভ্যন্তরীণ বিভক্তি দূর করাই এখন সময়ের দাবী।