দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের কোথাও শুরু থেকে স্কোয়াডে থাকে না এনামুল হক বিজয়। কিন্তু দলের কোনো খেলোয়াড় ইনজুরি কিংবা অসুস্থ হলেই দলে ডাক পাওয়ার বিষয়ে সবার আগে নাম আসে এই উইকেট রক্ষক ব্যাটারের। পরবর্তী সময় দলের সঙ্গে যুক্তও হন তিনি। এ সময় নেটে দলের সঙ্গে অনুশীলন করলেও ম্যাচের সময় একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় না তাকে। বসিয়ে রাখা হয় সাইড বেঞ্চে।
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার পর দল থেকে ছিটকে যান টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার পরিবর্তে প্রতিবারের মতো এবারও ডাক আসে বিজয়ের। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে গত বৃহস্পতিবার সবার কাছে দোয়া চেয়ে দেশ ছাড়েন তিনি। সেদিন ভারতের উদ্দেশে দেশ ত্যাগের আগে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে এক পোস্টে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘তাদেরকে অনেক ধন্যবাদ। যারা সবসময় সমর্থন দিচ্ছে। তাদের এই দোয়া যেন কাজে রূপান্তর করতে পারি। ভালো করতে পারি দলের জন্য। তারা এভাবেই দোয়া করতে থাকুক। নিজেকে যতটুকু প্রস্তুত করেছি, চেষ্টা করব এপ্লাই করতে।’
তবে গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচে সেরা একাদশে রাখা হয়নি বিজয়কে। তার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান স্পিনার নাসুম আহমেদ। শুধু বিশ্বকাপ নয়, গত এশিয়া কাপের জন্য যেই দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সেখানেও ছিলেন না বিজয়। দলের ওপেনার লিটন দাস অসুস্থ হওয়ার পর এশিয়া কাপের দলে ডাক পান এই ডানহাতি ব্যাটার। ডাক পাওয়ার পরও তাকে একাদশে না রেখে দুই তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং নাঈম শেখের ওপর আস্থা রাখে বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচ থেকে রান খরায় ভুগতে থাকেন ওপেনার নাঈম শেখ। ব্যর্থ হয়েও ধারাবাহিকভাবে দলে সুযোগ পেতে থাকেন নাঈম। তবুও দলে জায়গা পাননি এনামুল হক বিজয়। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে এক ম্যাচ আগেই এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পরে ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে নাঈম শেখের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পান বিজয়। সেই ম্যাচে ১১ বল খেলে ৪ রান করেন বিজয়।
২০১৫ বিশ্বকাপে দলের তৃতীয় ম্যাচে ফিল্ডিংয়ে চোট পেয়ে ছিটকে পড়েন। এরপর ২০১৯ বিশ্বকাপে আর সুযোগ পাননি। এবারও স্কোয়াডে ছিলেন না। আর কখনো বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন কি না, সেই সংশয় ছিল। কিন্তু অনেকটা আচমকাই সুযোগ হয়েছিল তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ হওয়ার। শেষ পর্যন্ত তা হলো না। এবারের বিশ্বকাপের শেষের যাত্রী হয়ে এসে অনেকটা দর্শক হয়েই রইলেন এনামুল।
এর আগে ২০১২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বর্তমান অধিনায়ক বাবর আজমকে ছাপিয়ে সেই বিশ্বকাপে ৬০.৮৩ গড়ে ৩৬৫ রান করেন এনামুল হক বিজয়। যা ছিল ঐ আসরের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান। অথচ সেই বাবর আজম এখন ব্যাট হাতে ক্রিকেট বিশ্বের রাজত্ব করলেও বিজয় সুযোগ পান না দলে। মাঝে মধ্যে সুযোগ পেলেও নামা হয় না মাঠে।