স্পোর্টস ডেস্ক: বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, পুরান চাল ভাতে বাড়ে। এর অর্থ হলো, অভিজ্ঞরা দিনশেষে সফলতা আনে। এই কথা যে অযৌক্তিক নয়, তা যেন চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরুর আগে যখন রিয়াদকে ১৫ সদস্যের দলে রাখা নিয়ে ক্রমাগত জলঘোলা হচ্ছিল। তাকে বুড়ো বলে বাতিলের খাতায় ফেলে দিতে চেয়েছিলেন নির্বাচক ও কোচ। তবে পারেননি, বিশেষ বিবেচনায় তাকে দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
সামালোচকরা ভেবেছিলেন, রিয়াদ হয়ত ফুরিয়ে গেছেন। দলকে তার দেওয়ার আর কিছু নেই। সেরা একাদশে খেলানো মানে দলের ভরাডুবি। এসব কথা সাইলেন্ট কিলারের কানে পৌঁছালেও চুপ থেকে। জবাব দিতে চেয়েছিলেন ব্যাটে-বলে। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, কথায় নয় কাজেই পরিচয়।
রিয়াদ পেরেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিনি জ্বলে উঠলেন আপন শক্তিতে। দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ৩৮২ রানের বিপরীতে ১৪৯ রানে হারে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের একক লড়াইয়ে হারের ব্যবধান কিছুটা কমে। ম্যাচটিতে ১১১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার, যা বিশ্বকাপ মঞ্চে তার তৃতীয় সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপ মঞ্চে শতক হাঁকানো একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটারও তিনি।
সেঞ্চুরির মাধ্যমে সব সমালোচনার জবাব দেওয়ায় অনুরাগীদের প্রশংসায় ভাসছেন রিয়াদ। তাদের বিশ্বাস ছিল, ঠিকই তিনি উপেক্ষার জবাব দেবেন। আর সেকারণে এই ক্রিকেটার সেঞ্চুরিটা পরিবারের সঙ্গে অনুরাগীদেরও উৎসর্গ করেছেন।
অন্যদিকে রিয়াদের স্ত্রী জান্নাতুল কাওসার মিষ্টি সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। লিখেছেন, সবকিছুর জন্য আলহামদুলিল্লাহ, মাঝে মাঝে আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা করেন তার আরও কাছে যাওয়ার জন্য। একজন মুমিন যদি আল্লাহর পরিকল্পনার ওপর সবর ও আস্থা রাখতে পারে, তবে সে সেরা পুরস্কার পায়। মাশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার স্বামী এমন একজন বিশ্বাসী। গত কয়েক মাস তিনি কেবল আল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি মসজিদেই সবচেয়ে শান্তি খুঁজে পেয়েছেন এবং আল্লাহর কাছে যা চেয়েছিলেন তা দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।’
স্বামীর অর্জনে তো স্ত্রীই বেশি খুশি হবেনই। কারণ, গেল তিন মাস যে খারাপ সময়টা পার করেছেন রিয়াদ, সেই সময়টায় এই ক্রিকেটারের পাশে ছিলেন তার স্ত্রী। তিনি তাকে ভরসা দিয়েছেন। আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন।