স্পোর্টস ডেস্ক: মাঠের চেয়েও কথার লড়াইয়ে বেশি উত্তাপ চড়ায় বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ। সেই উত্তাপের ছোঁয়া লাগে না বাইশ গজে। ভারতের বিপক্ষে ২০০৭ বিশ্বকাপের পর আর কোনোবার জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। গত দুই আসরে লড়াই করলেও এবার আর লড়াইও করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে হেরে টানা তৃতীয় পরাজয়ের তেতো স্বাদ নিতে হলো লিটন-শান্তদের।
ব্যাটে-বলে কোনও বিভাগেই সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি শান্ত-মোস্তাফিজরা। নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান খেলেননি এই ম্যাচে, বিশ্রামে ছিলেন দলের সেরা পেসার তাসকিন আহমেদও। দুজনের অনুপস্থিতি ভুগিয়েছে দলকে।
পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট এসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। পুনের ব্যাটিং স্বর্গে বাংলাদেশের শুরুটা হয় মন্থর। লিটন দাসের প্রথম রান পেতেই লেগে যায় ১৪ বল। তানজিদ তামিম নিজের খোলস ছেড়ে বের হয়েছিলেন আজ।
৪৩ বলে ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫১ রান করে কুলদ্বীপ যাদবের বলে লেগ বিফোর হয়ে ফিরেন সাজঘরে। লিটন-তামিমের জুটিটা ছিল ৯৩ রানের। এই জুটি ভেঙেছে বিশ্বকাপে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৬৯ রানের জুটির রেকর্ড। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে যেটি করেছিলেন মেহরাব হোসেন ও শাহারিয়ার হোসেন।
তামিমের ফেরার পর অধিনায়ক শান্তকে ৮ (১৭) রানে ফেরান রবীন্দ্র জাদেজা। মেহেদী হাসান মিরাজকে ৩ (১৩) রানে ফেরান মোহাম্মদ সিরাজ। তবে এই ম্যাচে ৬২ বলে ৫টি চারে লিটন তুলে নেন চলতি আসরে নিজের দ্বিতীয় অর্ধশতক।
শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্র জাদেজার ধারহীন বলে লং অফে ক্যাচ তুলে সাজঘরে ফিরেন ৮২ বলে ৬৬ রান করে। এবারের আসরে টানা ব্যর্থ হয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। শার্দুল ঠাকুরের বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৬ রান করতে খেলেন ৩৫টি বল।
মুশফিকুর রহিম এই ম্যাচে পূর্ণ করেন বিশ্বকাপের ক্যারিয়ারে ১ হাজার রান। তবে এগোতে পারেননি বেশিদূর। ৪৬ বলে ৩৮ রান সাজঘরে ফিরেন জসপ্রিত বুমরার বলে জাদের হাতে ক্যাচ দিয়ে।
এরপর নাসুম আহমেদ-মাহমুদউল্লাহর জুটি থেকে আসে ২৬ বলে ৩২ রান। নাসুম দুই বাউন্ডারিতে ১৮ বলে ১৪ রান করে ফিরেন সিরাজের বলে ক্যাচ দিয়ে।
২৩৩ রান তুলতে যখন ৭ উইকেট পড়ে যায় তখন মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে জুটি বাঁধেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। বুমরার বলে বোল্ড হওয়ার আগে খেলেন সমান ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৪৬ রানের ইনিংস। তাতে বাংলাদেশ পায় ৮ উইকেটে ২৫৬ রানের লড়াকু সংগ্রহ।
ভারতের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন জসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ ও রবীন্দ্র জাদেজা। ১টি করে উইকেট নেন শার্দুল ঠাকুর এবং কুলদ্বীপ যাদব।
বাংলাদেশের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল চার-ছক্কার ঝড় বইয়ে দেন টাইগার বোলারদের ওপর। রোহিত ৪০ বলে ৭টি চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ রান সাজঘরে ফিরেন দলীয় ৮৮ রানের মাথায় হাসান মাহমুদের বলে ক্যাচ দিয়ে।
এরপর ৫৫ বলে ৫টি চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ বলে ৫৩ রান করে ফিরেন মেহেদী মিরাজের বলে। ডিপ মিড উইকেটে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ নেন দুর্দান্ত ক্যাচ।
শ্রেয়াস আইয়ার অবশ্য বড় করতে পারেননি ইনিংস। ১৯ রান করে মিরাজের বলেই ক্যাচ দেন রিয়াদের হাতে। ১৭৮ রানে শ্রেয়াসের ফেরার পর আর উইকেট দিতে হয়নি ভারতকে।
বিরাট কোহলির অপরাজিত ১০৩ রানের (৯৫) ইনিংস আর কেএল রাহুলের ৩৪ রানে ভর করে ৮.৩ ওভার হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত।