আল মাহমুদ অপু :চলতি বছরের মে মাস থেকে ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে আসছেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক হিথ স্ট্রিক। দক্ষিণ আফ্রিকায় তার লিভার ও কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা চলছে। এরই মধ্যে হঠাৎ খবর আসে প্রাণঘাতী এই রোগের কাছে হার মেনে পরলোকে পাড়ি জমিয়েছেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক।
জিম্বাবুয়ের পাশপাশি বিশ্বের অনেক দেশের সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটারও স্ট্রিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন। এর মধ্যে ছিলেন স্ট্রিকের সাবেক সতীর্থ হেনরি ওলেঙ্গাও। কিন্তু জিম্বাবুয়ের সাবেক বোলার ও ধারাভাষ্যকার জানালেন, আদতে স্ট্রিকের মৃত্যুর খবর পুরোপুরি ভিত্তিহীন।
প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে হেনরি ওলেঙ্গা বলেন, “খারাপ খবর পেলাম, হিথ স্ট্রিক অন্য পৃথিবীতে চলে গেছে। শান্তিতে থেকো কিংবদন্তি। আমাদের দেশ থেকে উঠে আসা সেরা অলরাউন্ডার। তোমার সঙ্গে খেলাটা আনন্দের ছিল। আমার বোলিং স্পেল যখন শেষ হবে অন্য ভুবনে তোমার সঙ্গে দেখা হবে।”
কিন্তু ঘণ্টাখানেক যেতেই সেই টুইট মুছে ফেলেন ওলেঙ্গা। পরবর্তীতে তিনি নিশ্চিত করেন, স্ট্রিকের মৃত্যুর খবর মিথ্যা রটনা ছাড়া আর কিছুই নয়। সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশটও দেন ওলেঙ্গা। বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও স্ট্রিকের মৃত্যুর খবরটিকে গুজব বলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই নয়, বড়ো বড়ো সংবাদমাধ্যম যেমন—রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ানেও স্ট্রিকের মৃত্যুর খবর জানিয়ে প্রতিবেদন করা হয়। পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে সেসব প্রতিবেদন অনলাইন থেকে তুলে নেয় তারা।
হিথ স্ট্রিককে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দলের অধিনায়কত্বের ভারও ছিল তার কাঁধেই। জিম্বাবুয়ের প্রথম ও একমাত্র বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ১০০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে এই পেসারেরই।
জিম্বাবুয়ের জার্সিতে ৬৫ টেস্ট ও ১৮৯টি ওয়ানডে খেলেছেন স্ট্রিক। টেস্টে ২১৬টি উইকেট নেওয়া স্ট্রিক ওয়ানডেতে ২৩৯টি উইকেট শিকার করেছেন। ব্যাট হাতে টেস্টে ১,৯৯০ রান এবং ওয়ানডেতে ২,৯৪৩ রান করেছেন।
২০০৫ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ার্কশায়ারের অধিনায়ক হিসেবে দুই বছরের চুক্তি করেন স্ট্রিক। যদিও পরে সেটি সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে। ২০০৭ সালে নিষিদ্ধ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে (আইএসএল) নাম লেখানোর পর তার ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে।
খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নিলেও কোচিংয়ের মাধ্যমে ক্রিকেটের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন স্ট্রিক। ২০১৪ সালে তিনি। বাংলাদেশের বোলিং কোচের দায়িত্ব পান। এছাড়া জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড, গুজরাট লায়নস ও আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে কাজ করেছেন স্ট্রিক।
দুই বছর আগে অবশ্য স্ট্রিকের উজ্জ্বল ক্রিকেটীয় জীবনে কলঙ্কের কালি লাগে। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধির কয়েকটি ধারা ভঙ্গের অপরাধে ২০২১ সালে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন সাবেক এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।