প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের আমূল পরিবর্তন হয়েছে এবং দেশের সবস্তর থেকে দারিদ্র্য দূর হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ২০২২’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে এখন কুঁড়ে ঘর, ছনের ঘর নেই, আজ থেকে ১০ বছর পরে আমাদের নতুন প্রজন্মকে মিউজিয়ামে নিয়ে দেখাতে হবে দারিদ্র্যটা কি হারে ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনি আজকে একটা আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন আপনারা সেটা নিশ্চই অস্বীকার করবেন না। আমরা দারিদ্র্যের হারও যেমনি কমিয়েছি ঠিক তেমনি পার ক্যাপিটাল ইনকামও বেড়েছে। সেই পার ক্যাপিটাল ইনকাম বলেন, জিডিপি বলেন, যাই বলেন না কেন এটা বৃদ্ধি করার চালিকা শক্তি কিন্তু আপনারা।
তিনি আরও বলেন, আমাদের অর্থনীতি, ব্যবসা ও শিল্পকারখানার জগৎ বিএসইসি যে কাজ করে চলেছেন তার তুলনা হয় না। অর্থনীতি যদি অন্ধকারে থাকে পিছিয়ে থাকে আমরা যতোই ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাই সম্মুখের দিকে এতে কিছুই ঘটবে না। আপনারা যদি ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ফিরে দেখেন তখন কি ছিলেন আর এখন কোথায় আসছেন। এই যে একটা পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এটা এমনি এমনি হয়নি। আপনারা যারা ব্যবসায়ী সারাজীবন কাজ করেছেন ঠিক তেমনি সরকার আপনাদেরকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য সুবিধা সব ধরনের ফেসালিটিস প্রোভাইট করেছেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারের ধরন বুঝতে হবে। আমাদের কোথায় সমস্যা সেটা খুঁজে বের করতে হবে। সমালোচনা করবো তবে ভালো দিকটা দেখবো, তাহলে ভালো হবে।
অনুষ্ঠানে ২০২২ সালের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী পুরস্কার’ দেওয়া হয়। স্টক ব্রোকার ও ডিলার, মার্চেন্ট ব্যাংকার এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি- এই তিনটি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
স্টক ব্রোকার ও স্টক ডিলার ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে ইবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এই ক্যাটাগরিতে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় হয়েছে শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও ইসলামি ব্যাংক সিকিউরিটিজ। যুগ্মভাবে তৃতীয় হয়েছে শেলটেক ব্রোকারেজ ও ইমিনেন্ট সিকিউরিটিজ।
মার্চেন্ট ব্যাংকার ক্যাটাগরিতে পুরস্কার বিজয়ীরা হলেন– ১ম গ্রিন ডেল্টা ক্যাপিটাল ও দ্বিতীয় এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং দ্বিতীয় হয়েছে লংকাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট।
এছাড়া কমিশনের কর্মচারীদের শুদ্ধাচার পুরস্কার, ২০২২-২৩ বিজয়ী হন বিএসইসি নির্বাহী পরিচালক এটি এম তারেকুজ্জামান, বিএসইসির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার এবং অফিস সহায়ক সবুজ মিয়া।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।