স্বাভাবিকের চেয়ে রবিবার (৪ মে) ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল তাপমাত্রা। গত ১১ বছরের মধ্যে জুনের প্রথম চার দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে খুব সহজেই মুক্তি পওয়া যাবে না এই তাপপ্রবাহ থেকে। চলমান এ তাপপ্রবাহ আগামী বুধবার পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গত ৩০ বছরে জুন মাসের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বিবেচনায় গতকাল তাপমাত্রা ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুন মাসের তাপমাত্রা বিবেচনায় এটি গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। এর আগে ২০১২ সালের এই মাসে চুয়াডাঙ্গায় ৪২.৯ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ৪ জুন ঢাকার স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকার কথা। কিন্তু রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মানে ঢাকার তাপমাত্রা ৪.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। দিনাজপুরে স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকার কথা ৩৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু এ সময় দিনাজপুরে রেকর্ড হয়েছে ৪১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রংপুর বিভাগের বাকি ছয় জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলা, রাজশাহী বিভাগের আট জেলা, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা এবং ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজার, রাঙামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও বান্দরবান জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ সোমবার তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, আগামী বুধবার পর্যন্ত চলমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আর আগামী সোমবার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু টেকনাফ উপকূল পর্যন্ত এগোতে পারে। একই সঙ্গে বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে জনজীবনে অস্বস্তি আরো বাড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, তাপপ্রবাহ বাড়ার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো সূর্যের উত্তর গোলার্ধে লম্বালম্বি কিরণ দেওয়া, দিনের ব্যাপ্তি বড় হওয়া, তাপের পরশ পৃথিবীতে বেশি আসা, বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকা ও বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত জলীয়বাষ্প না থাকা। জলীয়বাষ্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত জলীয়বাষ্প না থাকায় বৃষ্টি হচ্ছে না। বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। অথচ বৃষ্টি হলে এই জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে প্রশান্তি বাড়তে পারত।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে, আজ সোমবার ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্য জায়গায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বৃষ্টির এই পূর্বাভাসে স্বস্তির আভাস নেই জানিয়ে আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, কালবৈশাখীর প্রভাবে বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমবে না। তাপমাত্রা কমতে হলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি হতে হবে। চট্টগ্রামে বৃষ্টি হলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হবে। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে তাপমাত্রা এমনিতেই কম। দেশের উত্তর-পশ্চিম দিকে বৃষ্টি হলে কালবৈশাখী হতে পারে। ফলে ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশালে যে পরিমাণ বৃষ্টি হবে, তাতেও তাপপ্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা নেই।