এই তো গত ২ মার্চের কথা। ফেসবুকে খালেক বিন খায়ের পোস্ট দিলেন, ‘স্টার্টেড নিউ জব অ্যাট প্রাইডসিস (প্রাইডসিস–এ নতুন চাকরি শুরু করলাম)।’ আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি)–এর সফটওয়্যার প্রকৌশল বিভাগ থেকে সদ্যই স্নাতক শেষ করেছেন। তাঁর চাকরির খবরে তাই বন্ধুরাও মন্তব্যের ঘরে লিখেছিলেন, ‘অভিনন্দন’!
ভীষণ রোমাঞ্চ, আনন্দ নিয়ে পেশাজীবন শুরু করেছেন। কত স্বপ্ন, কত পরিকল্পনা! হঠাৎই একধাক্কায় সব এলোমেলো হয়ে গেছে। কদিন ধরে একটু অসুস্থ বোধ করছিলেন। নানা পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর ধরা পড়েছে, ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত তিনি। চাকরির প্রথম বেতন যখন হাতে পৌঁছাল, খালেক তখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে।
৩১ মে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল, মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙে পড়েছেন এই তরুণ। অফিসের সহকর্মীরা খালেককে দেখতে এসেছেন। জ্যেষ্ঠ এক কর্মীকে দেখে এআইইউবির এই স্নাতক বলছিলেন, ‘স্যার আমি অফিসে যেতে চাই, কাজ করতে চাই। এভাবে বিছানায় শুয়ে থাকতে আর ভালো লাগছে না।’
ফেনী জেলার পুরাতন পুলিশ কোয়ার্টারে থাকে খালেকের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ইচ্ছা ছিল, স্নাতক শেষ করে পরিবারের দায়িত্ব নেবেন। সেই স্বপ্ন এখন অনেক দূরের মনে হয়। বাবা আবুল খায়ের একজন চা ব্যবসায়ী। মা সেলিনা আক্তার একজন গৃহিণী। বড় ভাই খালেদ বিন খায়ের সবে এমবিবিএস শেষ করে চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে চাকরি শুরু করেছেন। ছোট ভাই মাহমুদ বিন খায়ের জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী।
খালেদ বিন খায়ের বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ভাইটিকে লেখাপড়া করিয়েছি। করোনার সময়ও হাসপাতালে ডিউটি করেছি। কারণ, সে সময় ডিউটি করলে একটু বেশি টাকা পাওয়া যেত। সেই টাকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি দিয়েছি। আদরের ভাইটিকে শুধু টাকার অভাবে বাঁচাতে পারব না, কোনোভাবেই এটা মানতে পারছি না। কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।’
হাসপাতালে থাকার খরচ বেশি বলে ডাক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে খালেককে ফেনীতে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খালেদ বলেন, ‘আমরা ওকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানোর কথা ভাবছি। চিকিৎসার জন্য প্রায় কোটি টাকা লাগতে পারে। এখন ওর পাসপোর্ট রেডি করছি। যদিও এত টাকা কোথায় পাব জানি না। সবাই যদি আমার ভাইটার জন্য একটু সাহায্য করত…।’
সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান প্রাইডসিস আইটি লিমিটেডের উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার ইকবাল বলেন, ‘আমরা অফিস থেকে যতটুকু পারি করব। তা ছাড়া আমাদের অফিসের কর্মীরা নিজে থেকেই খালেকের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছেন। নিজেদের বেতন থেকে সবাই সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। চেষ্টাটা যদি দেশের সবাই মিলে করতে পারি, তাহলে হয়তো আবার খালেক হাসিমুখে অফিসে ফিরতে পারবে।’
এআইইউবিতে খালেকের সহপাঠী ছিলেন হারেব বিন জমসেদ। তিনি তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আর খালেক একই ফ্ল্যাটে থাকতাম। প্রায় সাড়ে চার বছর একসঙ্গে থেকেছি। দুই সপ্তাহ আগেও খালেক ভালো ছিল। হঠাৎ করে কী থেকে কী হলো! আমরা এআইইউবির বন্ধুরা মিলে সাহায্য করতে চেষ্টা করছি।’
খালেক বিন খায়েরকে সাহায্য পাঠাতে পারেন নিচের ঠিকানাগুলোয়:
বিকাশ: +8801836133409
নগদ: +8801876715647
ব্যাংক হিসাব:
এক্সিম ব্যাংক
A/C Name: MD. Khaled Bin Khair
A/C No: 0012100144013
খুলশী শাখা, চট্টগ্রাম