জাতীয় | রাজনীতি, বিএনপি।
নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদপোস্ট
ঢাকা, ২৫ অক্টোবর ২০২৬: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে আইনসভার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের দাবিতে বিএনপির আন্দোলন ছিল। সরকার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন কোন ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত হবে, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে আইনসভায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত সময়সূচি বা সংশোধনীর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি বক্তব্য ও পরবর্তী ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাজেকসহ পার্বত্য এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। কয়েকটি সশস্ত্র ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকে তিনি পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঘটনাটি সরকারের নজরে এসেছে। ভিডিও পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এখন এ-সংক্রান্ত রাজনৈতিক আলোচনা ও সাংবিধানিক পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতার বক্তব্য এবং বাস্তবে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা—দুটি পৃথক বিষয়। তাই পরবর্তী সময়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ, সংশোধনীর প্রস্তাব এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সূত্র: প্রথম আলো, ২৫ অক্টোবর ২০২৬।