নিজস্ব প্রতিবেদক | সংবাদ পোস্ট
ঢাকা, ১৩ অক্টোবর ২০২৬: দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ১৬৭ জন রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জন। এ সময়ে সরকারি হিসাবে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৩৩১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৪৮৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৪৭ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৯৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৫৩ জন, বরিশাল বিভাগে ২৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০২ জন, রংপুর বিভাগে ৯২ জন এবং সিলেট বিভাগে ২১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ডেঙ্গু সংক্রমণ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও রোগীর চাপ রয়েছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা, শয্যা ব্যবস্থাপনা এবং রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডেঙ্গুতে প্রতিদিন নতুন করে মৃত্যুর খবর জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরব্যথা, বমি কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার পরও বিপদের আশঙ্কা থাকতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এসব স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা জরুরি। প্রয়োজনে মশারি, মশা প্রতিরোধক এবং শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক ব্যবহার করা যেতে পারে।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং নিজের সিদ্ধান্তে ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন ও আইবুপ্রোফেনের মতো ওষুধ ডেঙ্গুতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা, কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণ এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন; এনটিভি অনলাইন ও দ্য রিপোর্ট।