1. abdullahalniat1952@gmail.com : Abdullah Al Niat : Abdullah Al Niat
  2. rangpursangbad@gmail.com : সংবাদ পোস্ট : সংবাদ পোস্ট
  3. aktutul350@gmail.com : Aktutul :
  4. saimumsadik1@gmail.com : Saimum Sadik : Saimum Sadik
  5. Sumonalilykhan@gmail.com : Sumona lily khan : Sumona lily khan
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ায় এনসিপি নেতা আটক, আ.লীগের মিছিলের মামলায় গ্রেফতার দেখালো পুলিশ ‘ভয়ংকর’ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে নিউইয়র্কে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো, আদালতে পুলিশের তথ্য নেতানিয়াহুর গোপনে আরব আমিরাত সফর, বৈঠকে ইরান ইস্যু শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন সাকিব এলপিজি সংকটে ২,০০০ টাকা ছাড়িয়েছে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১০–২০ টাকা করে যাঁরা সঞ্চয় করেন, তাঁদের থেকেও কর নিতে চায় সরকার পেনিসিলিনের আবিষ্কার চিকিৎসায় বিপ্লব আনলেও বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধের উদ্বেগ চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০

দেশজুড়ে ৩,৮৪৯ চাঁদাবাজের ‘কালো তালিকা’ প্রস্তুত: ৯০ ভাগই রাজনৈতিক নেতাকর্মী

সংবাদ পোস্ট
  • প্রকাশ কাল: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩৪ জন দেখেছেন

চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য রোধ এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলার প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এই তালিকায় মোট তিন হাজার ৮৪৯ চাঁদাবাজের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় রয়েছে এক হাজার ২৫৪ জন। বাকিরা সক্রিয় দেশের অন্যান্য জেলায়।

পুলিশের তথ্যমতে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সড়ক, হাটবাজার, বালুমহাল, বাস-টেম্পো স্ট্যান্ড, নৌঘাট, মাছ বাজার, ভ্রাম্যমাণ কাঁচাবাজার, সরকারি লিজকৃত জমিতে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পাইকারি আড়ৎ এবং বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া, তালা ঝুলিয়ে দেওয়া কিংবা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটায় তারা।

পুলিশের তালিকাভুক্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত—এমন অভিযোগ রয়েছে। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেদের পরিচয়ও বদলে ফেলে। একপর্যায়ে তারা নতুন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং চাঁদা আদায় করতে শুরু করে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, চাঁদাবাজির মাধ্যমে আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের কাছেও পৌঁছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্র প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পুলিশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সাম্প্রতিক সময়ে কারা চাঁদা তুলে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে তাদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন।

গত ৪ মার্চও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার পরই মাঠপর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের একটি পৃথক স্বচ্ছ তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আইজিপি মোহাম্মদ আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে যশোর জেলার এসপি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম আমার দেশকে জানান, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা তৈরির কাজ এখনো চলমান রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম রেঞ্জের এক এসপি জানান, চাঁদাবাজদের তালিকা প্রায় সম্পন্ন হয়ে গেছে। পুরোনো চাঁদাবাজরা কোথায় আছে সেটিও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তালিকাভুক্তদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সারা দেশের তিন হাজার ৮৪৯ জন চাঁদাবাজের মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় চাঁদাবাজ রয়েছে এক হাজার ২৫৪ জন। বাকি দুই হাজার ৫৯৫ জন চাঁদাবাজ রয়েছে ৬৪টি জেলায়। এর মধ্যে গাজীপুরে ৩৪ জন, ঢাকায় ১৫৪, মানিকগঞ্জে ৩০, নরসিংদীতে ৪০, রাজবাড়ীতে ৪৫, ফরিদপুরে ৩৫, গোপালগঞ্জে ২০, কিশোরগঞ্জে ২৪, মাদারীপুরে ৩৪, মুন্সীগঞ্জে ১৮, নারায়ণগঞ্জে ৫০, শরীয়তপুরে ২৩, টাঙ্গাইলে ৩০, কুষ্টিয়ায় ২৪, মাগুরায় ২৩, মেহেরপুরে ১৭, নড়াইলে ৩৫, সাতক্ষীরায় ৩৮, বাগেরহাটে ৫৫, চুয়াডাঙ্গায় ৪৫, যশোরে ৬৫, ঝিনাইদহে ২২, খুলনায় ৩৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৮, চাঁদপুরে ৪৭, চট্টগ্রামে ৬৭, কুমিল্লায় ২৬, কক্সবাজারে ৮৮, ফেনীতে ৪৩, লক্ষ্মীপুরে ২৯, নোয়াখালীতে ৩৪, নাটোরে ১২, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৫, পাবনায় ৫৭, রাজশাহীতে ১৪, সিরাজগঞ্জে ১৮, বগুড়ায় ১৩, জয়পুরহাটে ১৮, নওগাঁয় ৫৪, সুনামগঞ্জে ১২, সিলেটে ৩৫, হবিগঞ্জে ৩৪ ও মৌলভীবাজারে ৪৫ জনের নাম চাঁদাবাজের তালিকা উঠে এসেছে।

এছাড়া পঞ্চগড়ে ৪৩ জন, রংপুরে ২২, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৭, জামালপুরে ৬৭, ময়মনসিংহে ৩৪, নেত্রকোনায় ৩২, শেরপুরে ২৩, দিনাজপুরে ৩৫, গাইবান্ধায় ৩৮, কুড়িগ্রামে ৩৩, লালমনিরহাটে ২২, নীলফামারীতে ৩৬, ঝালকাঠিতে ৬১, বরগুনায় ৪২, বরিশালে ৩৯, ভোলায় ৭৩, পটুয়াখালীতে ৮৮ ও পিরোজপুরে ৩৮ জনের নাম চাঁদাবাজের তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এছাড়া তিন পার্বত্য জেলায় ২৪৬ জন চাঁদাবাজ রয়েছে বলে পুলিশের তালিকায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রাঙামাটি জেলায় ৯২ জন, খাগড়াছড়িতে ৮৮ জন এবং বান্দরবনে ৬৬ জন চাঁদাবাজ রয়েছে।

ডিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা ডিএমপির আটটি ক্রাইম জোনের ভিত্তিতে এক হাজার ২৫৪ জন চাঁদাবাজের একটি ডাটা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী হাতিরঝিলে ২০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ৪৪, তেজগাঁওয়ে ১০৫, শেরে বাংলা নগরে ১৩, মোহাম্মদপুরে ২২, আদাবরে চার, মিরপুর ২৩, তুরাগে ১২, উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় ১৩, উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ১৪, উত্তরখানে ১৭, দক্ষিণখানে ১২, বিমানবন্দরে ২৩, গুলশানে ১৪, খিলক্ষেতে ১৫, ভাটারায় ছয়, বাড্ডায় চার, বনানীতে ১৫, ভাষানটেকে পাঁচ, কাফরুলে চার, মিরপুরে ১২২, পল্লবীতে ৩৩, দারুস সালামে ছয়, শাহ আলীতে ১৬, রূপনগরে ১২, শাহবাগে ১৪, কলাবাগানে আট, নিউ মার্কেটে ৩৩, ধানমন্ডিতে ১২, রমনায় ১৪, হাজারীবাগে ৫৪, মতিঝিলে ৩৪, পল্টনে ৩৭, শাহজাহানপুরে ২২, সবুজবাগে ২৪, মুগদায় ১৩, খিলগাঁওয়ে ২৩, রামপুরায় ২৩, কদমতলীতে ২৩, ডেমরায় ১২, যাত্রাবাড়ীতে ৩৪, লালবাগে ৪৫, গেন্ডারিয়ায় ছয়, শ্যামপুরে ৫৫, কোতোয়ালীতে ৩৩, সূত্রাপুরে ২৩, বংশালে ৩৪, চকবাজারে ৪৪, লালবাগে ৩৪ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকার ২৩ জনের নাম রয়েছে।

কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এবং পুলিশের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, চাঁদাবাজরা নিজেদের ক্ষমতাসীন দল ও তাদের অঙ্গ-সংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে চাঁদা দিচ্ছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় রহিম, সবুজ, আলী ও শরিফ চাঁদা তুলে থাকে। তারা নিজেদের ক্ষমতাসীন দলের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তেজগাঁও এলাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাঁদা তোলা হয় কারওয়ানবাজার এলাকায়। তেজগাঁও থানার ১০৫ জন চাঁদাবাজের ৪৫ জনই হচ্ছে কারওয়ানবাজারকেন্দ্রিক। এদের মধ্যে লাল মিয়া, সোহেল, আবির ও সুমনের নাম উল্লেখযোগ্য। এই এলাকায় কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও সবজির ট্রাক থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে। ডিএমপি জানায়, খিলগাঁও মাছবাজার থেকে রহমান ও আজাদ নামে দুই ব্যক্তি চাঁদা তোলে। তারা নিজেদের স্থানীয় যুবদলের নেতা বলে পরিচয় দেয়। এছাড়াও বসিলার কাঁচাবাজারে জামিল এবং আহাদ নামে চাঁদা তুলে থাকে।

সূত্র জানায়, সদরঘাটকে কেন্দ্র করে হামিদ গ্রুপ নামে ২৪ জনের একটি গ্যাং চাঁদা তোলে। দেশের পট পরিবর্তন হওয়ার পর হামিদ ওই এলাকায় প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। এছাড়াও যাত্রাবাড়ীর মাছ বাজার থেকে খালেক মণ্ডল ও তার গ্যাং চাঁদা তুলে থাকে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, শিগগিরই এই তালিকা তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো খবর
Sangbadpost © All rights reserved 2026
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )