মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকেও অনেকে খাটো করতে চায় তুলে ধরে মুক্তিযোদ্ধা কাজী আশরাফ হুমায়ুন বাঙ্গাল বলেছেন, শেখ মুজিব ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্ভব নয়, এটাই সত্য।
মুক্তিযুদ্ধের স্বতন্ত্র বাহিনীগুলোর শীর্ষস্থানীয় কাদেরীয়া বাহিনীর ‘হনুমান কোম্পানির’ এই কমান্ডার বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস, নির্মোহ ইতিহাসকে যারা বিকৃত করার চেষ্টা করে, তারা ‘নির্বোধ’।
বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসে এক অনুষ্ঠানে সংকলনটির মোড়ক উন্মোচন হয়। সংকলনের দুটি খণ্ড আগেই প্রকাশ হয়েছে।
ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সাড়ে পাঁচশর বেশি আলোকচিত্র এক মলাটে এনে প্রকাশ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংকলন ‘রক্তরেখায় বাংলাদেশ’-এর তৃতীয় খণ্ড।
এ খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে এসে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আশরাফ হুমায়ুন বলেন, “এখন দেখছি মুক্তিযুদ্ধে শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকেও অনেকে খাটো করতে চায়। অথচ শেখ মুজিব ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্ভব নয়, এটাই সত্য।”
তিনি বলেন, “মিথ্যা টিকে থাকবে না, ইতিহাসে সত্যটাই টিকে থাকবে। সত্য সব সময়ই সত্য। ইতিহাসে যার যতটুকু অবদান, সেটুকুর স্বীকৃতি দিতে হবে।”
টাঙ্গাইলে ‘হনুমান কোম্পানির’ সশস্ত্র হামলায় তটস্থ থাকত পাকিস্তানি সেনারা। এই কোম্পানির কমান্ডার আশরাফ হুমায়ুনকে জীবিত বা মৃত ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই মুক্তিযোদ্ধা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কোনো ক্ষমতাসীন দলের নিজস্ব ব্যাপার নয়।
তিনি বলেন, “যে দল ক্ষমতায় আসবে, আর তাদের মতো করে ইতিহাস বলবে। এটা ঠিক না। কেউ কেউ এই দেশকে আবার পাকিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখছে, এটা কোনোদিনও সম্ভব না। কিন্তু যারা এই চেষ্টা করতেছে, তারা মূলত দেশটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করতেছে।
“মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে তো বাংলাদেশের জন্মকেই অস্বীকার করা হয়। ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের মানুষের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম।’ এই ভাষণের পর তো অনেকেই যুদ্ধের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েন। আর কোনো ডাকের অপেক্ষাও করেননি।”
ইতিহাসের সত্য যা, তা নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করে আশরাফ হুমায়ুন বলেন, “কেউ যদি ক্ষমতায় বসে নতুন ইতিহাসের ব্যাখ্যা শোনাতে চায়, তারা বলতেই পারে। এতে দেশটা পিছিয়ে যাবে। সত্যকে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সত্য সত্যই, আর মিথ্যা তো মিথ্যাই। নতুন প্রজন্ম যদি মিথ্যা ইতিহাস শেখে, তারা তো ধ্বংস হয়ে যাবে। তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস জানাতে হবে।”
মুক্তিযুদ্ধের সত্য ও নির্মোহ ইতিহাসকে প্রজন্মের সামনে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এই সংকলনটি প্রকাশ করা একটি সাহসী কাজ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে বইটি অনেক বেশি পাঠকের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত।”