আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর। সাবেক তারকা থেকে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা, যে যার মতো সেরা চার দল কিংবা ফাইনালিস্ট দল বলে দিচ্ছেন। ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াকেই রাখছেন সেরার কাতারে। যেখানে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা আফগানিস্তানের কথা কেউই বলবে না সেটিই স্বাভাবিক।
তবে এই তিন দলের যে কেউই দেখিয়ে দিতে পারে চমক। কে জানে শেষ পর্যন্ত শেষ চারে খেলতে পারে যেকোনো দল। দারুণ অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট বলেই কোনো দলকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
এশিয়ার দুই দেশ ভারত-পাকিস্তানকে ধরা হচ্ছে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দল। তবে অনেকটাই পিছিয়ে শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ। কিন্তু একটা জায়গায় এই তিন দল বেশ শক্তিশালী। স্পিন দিয়ে যেকোনো দলকে হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
এশিয়ার হেভিওয়েটস দল ভারত এবং পাকিস্তান সেমিফাইনালে খেলার দাবি জানাতে পারে তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপের জন্য। তবে দুই দলেরই বেশ ঘাটতি রয়েছে স্পিন বিভাগে। অন্তত শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের স্পিনারদের সাথে বেশ ফারাক, তবে বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করলে খুব একটা পিছিয়ে নেই।
আফগানিস্তান
বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান নেতৃত্ব দিবেন আফগানিস্তানের শক্তিশালী স্পিন ত্রয়ীকে। যার মধ্যে রয়েছেন মুজিব উর রহমান এবং মোহাম্মদ নবী। এই দুই পরিক্ষিত স্পিনারের সঙ্গে থাকা বাঁহাতি স্পিনার নূর আহমেদও হতে পারেন ট্রাম্প কার্ড।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলা রশিদের অভিজ্ঞতা আফগানিস্তানের জন্য কাজে আসবে নিঃসন্দেহে এবং ভারতের মন্থর উইকেটে বেশ এগিয়ে থাকবেন রশিদ।
মুজিব ও নবীও মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকাতে রশিদকে দারুণ সমর্থন দিতে পারেন। বিশ্বকাপের সরাসরি যোগ্যতা অর্জনকারী আফগানিস্তান দুই বছর পর পেসার নবীন-উল-হককে ফিরিয়েছে ওয়ানডে দলে। নবীনের সঙ্গে রয়েছেন ফাস্ট বোলার করিম জানাত।
বলা যায় দারুণ শক্তিশালী বোলিং ইউনিট নিয়ে বিশ্বকাপের মিশনে নামবে আফগানরা। তবে বোলারদের যদি ব্যাটাররা ঠিকঠাক সমর্থন দিতে পারে তাহলে আফগানরা হতে পারে লম্বা রেসের ঘোড়া।
বর্তমান সময়ে দলটির অন্যতম ব্যাটার ধরা হয় ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজকে। প্রতিপক্ষের পেস বোলারদের ঠিকঠাক সামলে নিতে পারলে মিডল-অর্ডারে ইব্রাহিম জাদরান, অধিনায়ক হাশমতুল্লাহ শহীদি এবং রহমত শাহ’র উপর নির্ভর করবে দলের ভাগ্য।
শেষ পর্যন্ত আফগানরা কতদূর যেতে পারবেন সেটি দেখা যাবে যখন জসপ্রিত বুমরাহ, শাহীন আফ্রিদি, মার্ক উড এবং প্যাট কামিন্স কিংবা তাসকিন আহমেদের মতো পেসারদের মুখোমুখি হবেন তখন।
আফগানিস্তান স্কোয়াড: হাশমতুল্লাহ শহিদি (অধিনায়ক), রহমানুল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জাদরান, রিয়াজ হাসান, রহমত শাহ, নাজিবুল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ নবি, ইকরাম আলিখিল, আজমতুল্লাহ ওমরজাই, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, নুর আহমেদ, ফজলহক ফারুকি, আব্দুল রহমান ও নাভিন উল হক।
শ্রীলংকা
প্রতিবারের মতো এবারও আন্ডারডগ হিসেবেই বিশ্বকাপের মিশনে নামতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। ভাঙাচোরা দল নিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলে ফেলাটা হতে পারে তাদের জন্য অনুপ্রেরনার। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ না পাওয়া লঙ্কানরা মূল পর্বে এসেছে বাছাই পর্বের চ্যাম্পিয়ন দল হয়ে।
তবে অপ্রত্যাশিত ভাবে লেগ-স্পিনিং অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার ছিটকে পড়াটা বড় ধাক্কা দলটির জন্য। তবে হাসারাঙ্গার জায়গায় স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া দুশান হেমন্ত চমক দেখিয়েছেন এশিয়া কাপে।
হাসরাঙ্গার অনুপস্থিতিতে বাঁহাতি স্পিনার দুনিথ ওয়েললালাগে এশিয়া কাপে মুগ্ধ করেছিলেন সবাইকে। তার বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে হয় সুপার ফোরের ম্যাচে ভারতের লম্বা ব্যাটিং লাইন-আপকেও।
এছাড়া পাওয়ার-প্লে’তে অফস্পিনার মহেশ থেকশানার বোলিং বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা প্রমাণিত। আগামী ৭ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার উদ্বোধনী ম্যাচ৷
ব্যাট হাতে বেশ খারাপ ফর্ম সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কার অধিনায়কত্ব করবেন দাসুন শানাকা। শেষ ১৭ ওয়ানডেতে মাত্র ১৫০ রান করেছেন তিনি। তবে বল হাতে শানাকাও হতে পারেন প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর একজন।
শ্রীলঙ্কা স্কোয়াড: দাসুন শানাকা (অধিনায়ক), কুসল মেন্ডিস (সহ-অধিনায়ক), কুসল পেরেরা, পাথুম নিসাঙ্কা, দিমুথ করুনারত্নে, সাদিরা সামারাবিক্রমা, চারিথ আসালাঙ্কা, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, দুশান হেমন্থ, দুনিথ ভেলালাগে, মাহিশ থিকশানা, কাসুন রাজিথা, মাথিশা পাথিরানা, লাহিরু কুমারা, দিলশান মাদুশাঙ্কা।
রিজার্ভ খেলোয়াড়: চামিকা করুনারত্নে।
বাংলাদেশ
নানা বিতর্ক পেছনে ফেলে বাংলাদেশ দলের এবার বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার অপেক্ষা। ২০১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা দল গড়েও আশানুরূপ ফল পায়নি বাংলাদেশ। তবে এবার সাকিব আল হাসানের নেতৃত্ব বেশ আশা দেখাচ্ছে।
ব্যাটে-বলে বেশ ব্যালেন্স রাখা হলেও কিছুটা ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষ করে ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের না থাকাটা বড় ঘাটতি। তবে দলে সুযোগ পাওয়া ব্যাটাররাও পরীক্ষা দিয়েই জায়গা করে নিয়েছেন দলে।
অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বাংলাদেশ দলের মূল ভিত্তি, ঠিক যেমনটি গত বিশ্বকাপে অলরাউন্ড পারফর্মে মাতিয়ে রেখেছিলেন আসর। বাংলাদেশ গত বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিলেও সাকিব ছিলেন রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে।
চলতি মাসে এশিয়া কাপের বেশ হতাশাজনক পারফরম্যান্স করলেও শেষ ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে বেশ উজ্জীবিত বাংলাদেশ দল। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে স্পিন বিভাগে রয়েছেন নাসুম আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, শেখ মেহেদী হাসানের মতো অভিজ্ঞরা।
বর্তমান সময়ে স্পিনের চেয়েও বেশ আলোচনা বাংলাদেশের পেস বিভাগ নিয়ে। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলামের সঙ্গে রয়েছেন হাসান মাহমুদ ও তানজিম হাসান।
ব্যাটিং লাইন-আপে মুশফিকুর রহিম, সাকিবরা বিশ্বমানের। যোগ হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পরিক্ষিত তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়রা বেশ আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে।
বাংলাদেশ স্কোয়াড: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক), লিটন দাস, তানজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদী হাসান, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব।