রংপুর বিভাগের অর্ধেক এমপির এবার কপাল পুড়তে পারে। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত হতে পারেন তারা।বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে ঝুঁকিতে থাকা এমপির সংখ্যা ১৫ টি আসনে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দুই ধাপে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এই সেপ্টেম্বরেই কমপক্ষে ১০০ আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। বাকি ২০০ আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে অক্টোবরে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে দেখভাল করছেন। ১০০ আসনে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত– এমন প্রার্থীদের মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি নির্বাচনে আসবে– এ সম্ভাবনা সামনে রেখেই দলের মনোনয়ন কার্যক্রম গুছিয়ে আনা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি আসনেই জনপ্রিয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।
দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ৩০০ আসনেই দফায় দফায় জরিপ চালিয়ে সৎ, যোগ্য, দলের প্রতি অনুগত ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাই করছেন প্রধানমন্ত্রী। দলের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য আবদুর রহমান বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই প্রার্থী বাছাই করছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে বিতর্কিত এমপিরা বাদ পড়তে পারেন।
এদিকে বিভিন্ন আসনে বারবার নির্বাচিত এমপিদের কেউ কেউ এবার মনোনয়ন পাবেন না বলে জানা গেছে। তারা জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন বলে আলোচনা রয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন উপনির্বাচনে বিজয়ী এমপির মধ্যে অনেকেই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না বলে গুঞ্জন আছে। বর্ষীয়ান এমপিদের কেউ কেউ জীবনের শেষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশায় দৌড়ঝাঁপ করলেও তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের অনেককেই মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আকার-ইঙ্গিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রংপুর বিভাগের আট জেলার ৩৩ আসনের মধ্যে ১৫টিতে রদবদলের সম্ভাবনা খুব বেশি।ঠাকুরগাঁওয়ের অন্তত দুটি আসনে নতুন প্রার্থিতার আভাস মিলেছে। দিনাজপুরে কমপক্ষে দুটি আসনের বর্তমান এমপি মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় ছিটকে পড়তে পারেন। নীলফামারীর দুটি ও লালমনিরহাটের একটি আসনে নতুন মুখ আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রংপুরের তিনটি আসনে আসতে পারে নতুন মুখ। এর মধ্যে রংপুর-৫ আসনের এমপি এইচ এন আশিকুর রহমান আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন চাইবেন না বলে জানিয়েছেন। ঝুঁকি এড়াতে কুড়িগ্রামের চার আসনের মধ্যে তিনটিতেই রদবদলের চিন্তাভাবনা রয়েছে। গাইবান্ধায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে দুটি আসনে।