নিজের মৃত্যুর গুজবে হতাশ হিথ স্ট্রিক। যেসব সূত্রের মাধ্যমে এই মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছে, তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে মনে করেন এই জিম্বাবুয়েয়ান ক্রিকেটার
কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের মৃত্যু ক্রিকেটপ্রেমীদের শোকগ্রস্ত করে তুলতে যথেষ্ট। ব্যতিক্রম হয়নি হিথ স্ট্রিকের বেলায়ও। হঠাৎ খবর আসে ক্যান্সারের কাছে হার মেনে পরলোকে পাড়ি জমিয়েছেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক স্ট্রিক।
গত মে মাসে লিভার ও কোলন ক্যান্সার ধরা পড়ার পর স্ট্রিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সে কারণে তার মৃত্যুর খবর খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। জিম্বাবুয়ের পাশপাশি বিশ্বের অনেক দেশের সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটার স্ট্রিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।
মূলত টুইটারে জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থ হেনরি ওলেঙ্গার এক পোস্টের সূত্র ধরেই স্ট্রিকের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পরে সেই ওলেঙ্গাই সেই টুইট মুছে দেন। সেই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের সাবেক বোলার ও ধারাভাষ্যকার জানান, স্ট্রিকের মৃত্যুর খবর নিতান্তই গুজব।
নিজের মৃত্যু নিয়ে জল ঘোলার পর মুখ খুলেছেন স্বয়ং স্ট্রিকও। ৪৯ বছর বয়সী এই জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটার জানালেন, নিজের মৃত্যুর খবর শুনে তিনি খুবই ব্যথিত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিড ডের বরাত দিয়ে করা এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
হিথ স্ট্রিক বলেন, “এটা পুরোপুরি গুঞ্জন এবং ডাহা মিথ্যা কথা। আমি দিব্যি ঠিক আছি। বিশেষ করে আজকের এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগেও সত্যতা যাচাই না করেই কারও মৃত্যুর মতো একটি ব্যাপার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এটা জেনে আমি হতাশ। যেসব সূত্রের মাধ্যমে এই খবর ছড়িয়েছে, আমার মনে হয় তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
জিম্বাবুয়ের কিংবদন্তি ক্রিকেটার হিথ স্ট্রিকের মৃত্যুর গুঞ্জনজিম্বাবুয়ের কিংবদন্তি ক্রিকেটার হিথ স্ট্রিকের মৃত্যুর গুঞ্জন
এ বছরের মে মাসে স্ট্রিকের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি লিভার ও কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। গত তিন মাস ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় তার চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (২২ আগস্ট) টুইটারে হেনরি ওলেঙ্গা বলেন, “খারাপ খবর পেলাম, হিথ স্ট্রিক অন্য পৃথিবীতে চলে গেছে। শান্তিতে থেকো কিংবদন্তি। আমাদের দেশ থেকে উঠে আসা সেরা অলরাউন্ডার। তোমার সঙ্গে খেলাটা আনন্দের ছিল। আমার বোলিং স্পেল যখন শেষ হবে অন্য ভুবনে তোমার সঙ্গে দেখা হবে।”
কিন্তু কিছুক্ষণ পর সেই টুইট মুছে দিয়ে পৃথক একটি পোস্টে সাবেক অধিনায়কের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত করছি, হিথ স্ট্রিকের মৃত্যুর সংবাদ নিছকই গুজব। তার সঙ্গে মাত্রই কথা হলো। থার্ড আম্পায়ার তাকে ফিরিয়ে এনেছেন। বন্ধুরা, সে বেঁচে আছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই নয়, ওলেঙ্গার টুইটের বরাত দিয়ে বড় বড় সংবাদমাধ্যম যেমন- রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ানেও স্ট্রিকের মৃত্যুর খবর জানিয়ে প্রতিবেদন করা হয়। পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে সেসব প্রতিবেদন অনলাইন থেকে তুলে নেয় তারা।
হিথ স্ট্রিককে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সফল ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দলের অধিনায়কত্বের ভারও ছিল তার কাঁধেই। জিম্বাবুয়ের প্রথম ও একমাত্র বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে এক হাজার রান ও ১০০ উইকেট এবং ওয়ানডেতে দুই হাজার রান ও ২০০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে এই পেসারেরই।
জিম্বাবুয়ের জার্সিতে ৬৫ টেস্ট ও ১৮৯টি ওয়ানডে খেলেছেন স্ট্রিক। টেস্টে ২১৬টি উইকেট নেওয়া স্ট্রিক ওয়ানডেতে ২৩৯টি উইকেট শিকার করেছেন। ব্যাট হাতে টেস্টে ১,৯৯০ রান এবং ওয়ানডেতে ২,৯৪৩ রান করেছেন।
২০০৫ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ার্কশায়ারের অধিনায়ক হিসেবে দুই বছরের চুক্তি করেন স্ট্রিক। যদিও পরে সেটি সংক্ষিপ্ত হয়ে আসে। ২০০৭ সালে নিষিদ্ধ ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লিগে (আইএসএল) নাম লেখানোর পর তার ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে।
খেলোয়াড় হিসেবে অবসর নিলেও কোচিংয়ের মাধ্যমে ক্রিকেটের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন স্ট্রিক। ২০১৪ সালে তিনি। বাংলাদেশের বোলিং কোচের দায়িত্ব পান। এছাড়া জিম্বাবুয়ে, স্কটল্যান্ড, গুজরাট লায়নস ও আইপিএলের কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে কাজ করেছেন স্ট্রিক।
দুই বছর আগে অবশ্য স্ট্রিকের উজ্জ্বল ক্রিকেটীয় জীবনে কলঙ্কের কালি লাগে। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধির কয়েকটি ধারা ভঙ্গের অপরাধে ২০২১ সালে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন সাবেক এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।