একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক যুদ্ধাপরাধী মো. আব্দুল জলিল গাজীকে (৭১) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৩)।
বৃহস্পতিবার (২২ জুন) রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন আইনুছবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক জানান, গ্রেপ্তার জলিলের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, ও লুটপাটসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ আনা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সাতক্ষীরার শ্যামনগর গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আব্দুল জলিল গাজীসহ অন্যান্য রাজাকারের সহায়তায় ক্যাম্প স্থাপন করে। জলিলের নেতৃত্বে রাজাকাররা গ্রামের সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানি আর্মিদের বাংকার, বন্দিশালা, টর্চারসেল তৈরির কাজে বাধ্য করতো।
এর প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ একটি মামলা (নং-৪) দায়ের করা হয়। ওই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরা না দেওয়ায় আদালত অভিযুক্তের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এর পরপরই আত্মগোপনের জন্য তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন আইনুছবাগ এলাকায় চলে আসেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি নিয়মিত স্থান পরিবর্তন করে পলাতক জীবনযাপন করতে থাকেন। এসময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তিনি অন্যের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেন। আত্মগোপনে থাকাকালীন তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
গ্রেপ্তার জলিলের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।