রাজধানীর মতিঝিলে পুলিশ কনস্টেবল বাদল মিয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি রিপন নাথ ঘোষকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব-১০-এর একটি দল টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। রিপনের কাছে বিভিন্ন নামে নিবন্ধন করা ৯টি মোবাইল ফোনের সিম পাওয়া গেছে।
এর আগে কনস্টেবল বাদল হত্যায় জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে আরও এক আসামি পলাতক রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে রিপন র্যাবকে জানিয়েছে, মাদক ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সহযোগীদের নিয়ে সে পুলিশ সদস্য বাদলকে খুন করে।
২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলের টিএন্ডটি কলোনি এলাকা থেকে পুলিশের কনস্টেবল বাদল মিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলা করে। ২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল রিপন নাথকে প্রধান অভিযুক্ত করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রিপন নাথ ঘোষসহ পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
গ্রেফতার হওয়া রিপন নাথকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ২০১২ সালে ৯ নভেম্বর মতিঝিলের এজিবি কলোনি এলাকায় বোমা বিস্ফোরণ হয়। ওই ঘটনায় রিপনের সহযোগী গোপাল চন্দ্রকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করে। এর কিছুদিন পর রিপন নাথ ও তার এক সহযোগী মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার হয়। ওই আভিযানিক দলের সদস্য ছিলেন কনস্টেবল বাদল। পরে রিপন ও তার সহযোগী দুই মাস কারাভোগ করে জামিনে বের হয়। একপর্যায়ে অপরাধীরা জানতে পারে, কনস্টেবল বাদল মতিঝিল এলাকায় বসবাস করে। তারা সন্দেহ করে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতারের পেছনে বাদলের হাত রয়েছে। বাদলের কারণে তাদের মাদক ব্যবসা ব্যাহত হচ্ছে।
এ কারণে কনস্টেবল বাদলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ২০১৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রাইভেটকার ভাড়া করে অন্য সহযোগীদের নিয়ে কনস্টেবল বাদলের কর্মস্থল শাহবাগ গোলচত্বর এলাকায় যায় রিপন। পরিকল্পনা অনুযায়ী রিপনের সহযোগী বিশ্বজিৎ নামের একজন কনস্টেবল বাদলকে ডেকে এনে কৌশলে প্রাইভেটকারে তোলে। বিশ্বজিৎ বাদলের পূর্বপরিচিত ছিল। তারা কনস্টেবল বাদলকে নিয়ে প্রাইভেটকারে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকে এবং তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে তারা রাজধানীর মতিঝিলের এক নির্জন এলাকায় গিয়ে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে কনস্টেবল বাদলকে হত্যা করে।
র্যাবের মুখপাত্র আরও জানান, রিপন মতিঝিল এলাকার চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিল। বাদল হত্যার পর গ্রেফতার হলেও জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায় রিপন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সে দিনে টাঙ্গাইল-রংপুর রুটে বিভিন্ন বাসের সহকারীর কাজ করত। রাতে মাদক কারবার করত। এজন্য সে বিভিন্ন নামে নিবন্ধন করা মোবাইল সিম ব্যবহার করত।