চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর এলাকার চৌধুরী পাড়া মহল্লার বাসিন্দা রমজান আলী (৬০)। তিনি পেশায় সাইকেল মেকানিক। কিন্তু এখানকার মানুষ তাকে চিনে জয় বাংলা নামে। করণ তিনি বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ভক্ত। এমনকি ৩১ ২০ বছর ধরে শেখ হাসিনার নামে কুরবানি দিচ্ছেন রমজান আলী ধরে ঈদুল আজহায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বিশ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে কুরবানি দিয়ে আসছেন রমজান।
তবে নেই তার কোনো চাহিদা। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, রমজান উচ্চবিত্ত না হলেও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে এই কুরবানি দিয়ে থাকেন। কিন্তু দলের কাছে কোনদিন কিছু চাননি তিনি। রমজান আলী শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য ও চৌধুরীপাড়া মহল্লার মৃত ইউনুস আলীর ছেলে।
জানা গেছে, যুবক বয়স থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভক্ত রমজান আলী। তাই ছোট থেকেই আওয়ামী লীগের সব মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করা তার নেশা। শুধু তাই নয় দলের জন্য তার ভালোবাসা দেখে খুশি হয়ে শিবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র কারিবুল হক রাজিন শিবগঞ্জ পৌরসভার পাশে জয় বাংলা চত্বর বানিয়েছেন তার নামে। তিনি এবারও পবিত্র ঈদুল আজহায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে কুরবানির ব্যবস্থা রেখেছেন।
রমজান আলী বলেন, শেখ হাসিনার প্রতি আমার ভালোবাসা দেখে অনেক আগে থেকেই এলাকার মানুষ আমাকে বঙ্গবন্ধুর আত্মীয় নামে ডাকে। অনেকে পাগল বলে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর জন্য আমাকে পাগল বললেও আমার ভালো লাগে। আর এই এজন্যই আমার নাম রমজান আলী হলেও; আমাকে সবাই জয় বাংলা নামেই চিনে। আর এতে আমি গৌরর বোধ করি। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবেসে ১১টি কুরবানি দিয়েছি। পরে জানতে পারলাম মৃত মানুষের নামে কুরবানি করা যায় না। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ২০ বছর ধরে কুরবানি দিয়ে আসছি। এবারও দিব। গরু কিনে এনেছি। আমার ইচ্ছে একটি বড় গরু শেখ হাসিনার নামে কুরবানি দেয়ার কিন্তু আমি গরীব মানুষ এতো টাকা কোথায় পাব। তাই সাতজন মিলে অংশীদার হয়ে একটি গরু কুরবানি ব্যবস্থা করি। এবারও তাই করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি এ জন্য ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত আমার দোকান ভাঙচুর করেছে। এছাড়াও ১৯৯১ সালে আমি বিএনপি-জামাতের অত্যাচারে রাজশাহীতে ১০ বছর কাটিয়েছি। বাড়িতে থাকতে পারিনি। এক কথায় বলা যায় আমি নির্যাতিত আওয়ামী লীগ।
দল পাগল এই নেতা বলেন, আমি জীবনে যতদিন বাঁচব, শেখ হাসিনার নামে একটি করে কুরবানি দিয়ে যাব। দলের জন্য কাজ করব। তবে কিছু পাওয়ার আশায় নয়। দলকে ভালোবেসে। তবে আমার কোনো কিছু পাওয়ার ইচ্ছে নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা, তোফাইল আহম্মেদ নামে স্কুল শিক্ষক বলেন, আমি ছোট থেকেই দেখছি রজজান বঙ্গবন্ধুর ভক্ত। দিন রাত দলের জন্য কাজ করেন। দলকে ভালোবাসেন। এমনকি আগে প্রতি বছর বঙ্গবন্ধু নামে কুরবানি দিত। কিন্তু ২০ বছর আগে শুনেছে মৃত মানুষের নামে কুরবানি হয় না। তাই এখন শেখ হাসিনার নামেই কুরবানি দিয়ে থাকেন তিনি। এমন মানুষ এলাকায় আর নেই।
শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শিবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র কারিবুল হক রাজিন বলেন, রমজান আলী বঙ্গবন্ধুর ভক্ত। এটা আমরা অনেক আগে থেকেই জানি। সে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নামে কুরবানিও দিয়ে থাকেন। আর এলাকার মানুষ তাকে চিনে জয় বাংলা নামে। শিবগঞ্জ পৌসভার পাশে রমজান গড়ে তুলেছিলেন জয় বাংলা সংগ্রাম পরিষদ। তাই সেখানেই গড়ে তোলা হয়েছে জয় বাংলা চত্বর।