আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা মরহুম তোফায়েল আহমেদের জানাজায় অংশগ্রহণকারী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সারোয়ার হোসাইন এবং সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, একজন বর্ষীয়ান জাতীয় নেতার জানাজায় অংশগ্রহণ করা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার। শোকের মুহূর্তে জানাজায় উপস্থিত হওয়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।
সারোয়ার হোসাইন বলেন, তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর জানাজায় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা শুধু মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়, এটি গণতান্ত্রিক চর্চার জন্যও অশনিসংকেত। শোকাহত মানুষের প্রতি এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু একজন জাতীয় নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ এবং শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার অধিকার সবার রয়েছে। এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত।
অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু বলেন, আইনের শাসনে বিশ্বাসী কোনো রাষ্ট্রে জানাজায় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার বা হয়রানির ঘটনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি মৌলিক নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি আরও বলেন, মরহুম তোফায়েল আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পরিবর্তে সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
বিবৃতিতে দুই নেতা মরহুম তোফায়েল আহমেদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে জানাজাকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।