৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৯ মাস পর প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আনন্দ মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। রোববার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে” শ্লোগানসহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্রলীগের নেতারা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। তারা দাবি করেন, এই আদর্শকে ধারণ করেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাজনীতি করে যাচ্ছে।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা সংবাদ পোস্ট কে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বস্তিতে নেই এবং অতীত সময়কে স্মরণ করছে। আওয়ামী লীগ সরকারই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে উন্নয়নবান্ধব সরকার, বিশেষ করে গরিব মানুষের কল্যাণে তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য।

রাজু ভাস্কর্যে আনন্দ মিছিল,ছাত্রলীগের নেতারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ তুলে ধরলেন
আরেক নেতা বলেন, “বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছিল অসাম্প্রদায়িক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে যাচ্ছিল। দেশের মানুষ এখন সেই ধারাবাহিকতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।”
অপর এক নেতা বলেন করেন, ছাত্রলীগ সবসময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে কাজ করে। ভবিষ্যতেও আমরা সেই পথেই এগিয়ে যাব এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকব।
নির্বাচন প্রসঙ্গে নেতাদের বক্তব্য
মিছিলে বক্তারা ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। তাদের দাবি, এই নির্বাচন ছিল একটি সুপরিকল্পিত বা ‘মেটিকুলাস ডিজাইন’-এর অংশ, যেখানে একটি বড় রাজনৈতিক দলকে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ায় নির্বাচনটি প্রতিযোগিতামূলক হয়নি। ফলে দেশের জনগণের একটি বড় অংশ এতে আগ্রহ হারায় এবং ভোটদানে অংশ নেয়নি।
অন্য এক নেতা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সেই পরিবেশ অনুপস্থিত ছিল বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা আরও দাবি করেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই পারে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে।
মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।