ক্লিনিকের চিকিৎসা অবহেলা ও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে একটি প্রসূতির মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। সিজারের পর ওই চিকিৎসকদের চলে যাওয়ার ঘটনা এবং পরবর্তীতে নার্সদের গাফিলতির কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। তবে মাতার মৃত্যুর পরেও জন্ম নেয়া ছেলে নবজাতকটি সুস্থ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরের ধাপ এলাকায় অবস্থিত পিয়ারলেস ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা ওই ক্লিনিকে ভাঙচুর চালায়।
নিহত প্রসূতির নাম জানা যায় জান্নাতুল ফেরদৌস, যিনি হারাগাছ পৌরসভার সাহেবগঞ্জ এলাকায় বাস করেন। স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে প্রসব বেদনা উঠলে স্থানীয় এক চিকিৎসকের পরামর্শমতো জান্নাতুল ফেরদৌসকে পিয়ারলেস ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। গভীর রাতে সিজারের মাধ্যমে তিনি একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। অপারেশনের পর ক্লিনিকে উপস্থিত চিকিৎসকরা চলে যান, সেখানে কেবল দুটি নার্স হাজির ছিলেন।
ভুক্তভোগীর স্বজন নাহিদা অভিযোগ করে বলেন, ‘ভোরে রোগীর পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করলে আমরা নার্সদের ডাক দেই। তারা আমাদের ডাকের প্রতিউত্তর না দেয়ায় আমরা বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসকের খোঁজ নেয়া শুরু করি। আসলে চিকিৎসকের গাফিলতিতে আমাদের মেয়েটি আজ মারা গেছে।’ স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিকটি কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করেই পরিচালিত হচ্ছিল।
এ বিষয়ে স্থানীয় রহিম ফেরদৌস বলেন, ‘এই এলাকার অপরিচ্ছন্ন ক্লিনিকগুলোর মধ্যে এটি একটি, যা দেখতে গোডাউনের মতো। একটি চারতলা আবাসিক ভবন ভেঙে ক্লিনিক বানানো হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের সঠিক সুবিধা নেই, উল্টো রোগীদেরকে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।’ প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে রংপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার অনির্বাণ মল্লিক বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর এই ক্লিনিকে আসি। কিন্তু খুঁজেও কোনো চিকিৎসক, নার্স, বা কর্তব্যরত কাউকেই খুঁজে পাইনি। অভিযোগ গ্রহণ করে বিষয়টি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে রিপোর্ট করব। রোগীর স্বামীকে বলেছি, এ বিষয়ে সিভিল সার্জন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিতে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।